ডা. শ্যাম এন. গুপ্তা

বাংলা

আইভিএফ কি?

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন — শরীরের বাইরে, ল্যাবে ডিম্বাণু আর শুক্রাণু মিলিয়ে ভ্রূণ তৈরি করে, তারপর সেই ভ্রূণ জরায়ুতে রাখার চিকিৎসা। নিচে পুরো আইভিএফ পদ্ধতি ধাপে ধাপে।

মূল কথা

সহজ করে বললে

স্বাভাবিক গর্ভধারণে ডিম্বাণু আর শুক্রাণু মেলে ফ্যালোপিয়ান টিউবে। টিউব বন্ধ থাকলে, শুক্রাণুর সংখ্যা কম হলে, বা ডিম্বস্ফোটন ঠিকমতো না হলে সেই মিলন হয় না।

আইভিএফ সেই মিলনটা ল্যাবে নিয়ে আসে। ডিম্বাণু বের করে, শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিয়ে, ভ্রূণ তৈরি হলে জরায়ুতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি সব — ভ্রূণ বসা, বেড়ে ওঠা, জন্ম — শরীরের ভিতরেই হয়।

পদ্ধতি

আইভিএফ কিভাবে করে — ধাপে ধাপে

১. স্টিমুলেশন

প্রায় 10 থেকে 12 দিন প্রতিদিন ইঞ্জেকশন, যাতে একটার বদলে কয়েকটা ডিম্বাণু একসঙ্গে বড় হয়। মাঝে মাঝে আলট্রাসাউন্ড আর রক্ত পরীক্ষা।

২. ডিম্বাণু সংগ্রহ

হালকা অ্যানেস্থেসিয়ায়, আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে, মোটামুটি 15 থেকে 20 মিনিটের কাজ। কাটা নেই, সেলাই নেই। সেদিনই বাড়ি।

৩. নিষেক

ডিম্বাণু আর শুক্রাণু একসঙ্গে রাখা হয়। শুক্রাণুর মান কম হলে একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর ভিতরে ঢোকানো হয় — এটাই আইসিএসআই।

৪. ভ্রূণের বৃদ্ধি

তিন থেকে পাঁচ দিন ইনকিউবেটরে। পঞ্চম দিনে পৌঁছনো ভ্রূণকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে। সব ভ্রূণ সেখানে পৌঁছয় না — সেটা স্বাভাবিক।

৫. ভ্রূণ স্থানান্তর

সরু ক্যাথেটার দিয়ে ভ্রূণ জরায়ুতে রাখা হয়। অ্যানেস্থেসিয়া লাগে না, ব্যথা নেই, কয়েক মিনিট। একই চক্রে, বা পরের চক্রে হিমায়িত ভ্রূণ দিয়েও করা যায়।

৬. পরীক্ষা

স্থানান্তরের প্রায় 12 থেকে 14 দিন পরে রক্ত পরীক্ষা। তার আগে বাড়িতে প্রস্রাব পরীক্ষা করলে ভুল ফল আসতে পারে — নির্ধারিত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।

পার্থক্য

আইভিএফ আর আইসিএসআই কি আলাদা?

দুটোই একই চক্রের অংশ। পার্থক্য কেবল নিষেকের ধাপে। সাধারণ আইভিএফ-এ হাজার হাজার শুক্রাণু ডিম্বাণুর চারপাশে রাখা হয়, তার একটি নিজে থেকে ঢোকে।

আইসিএসআই-তে এমব্রায়োলজিস্ট একটি শুক্রাণু বেছে সূক্ষ্ম সূঁচ দিয়ে ডিম্বাণুর ভিতরে দেন। শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতি কম হলে, আগে নিষেক না হলে, বা TESA দিয়ে শুক্রাণু বের করা হলে এটা লাগে।

সতর্কতা

সবার আইভিএফ দরকার হয় না

এটা জরুরি কথা। আইভিএফ সব বন্ধ্যাত্বের প্রথম উত্তর নয়। অনেক দম্পতির জন্য ডিম্বস্ফোটন ঠিক করা, থাইরয়েড সামলানো, ওজন কমানো বা আইইউআই-ই যথেষ্ট।

প্রথম পরামর্শে প্রশ্নটা “আইভিএফ করব কি?” নয় — প্রশ্নটা হল “আমার ক্ষেত্রে আসল সমস্যাটা কী?” কারণ জানা গেলে চিকিৎসা নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

প্রশ্ন

আইভিএফ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

একটি আইভিএফ চক্রে কতদিন লাগে?
প্রথম ইঞ্জেকশন থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ পর্যন্ত সাধারণত 12 থেকে 14 দিন। একই চক্রে স্থানান্তর হলে আরও তিন থেকে পাঁচ দিন। হিমায়িত ভ্রূণ স্থানান্তর হলে সেটা পরের চক্রে হয়।
আইভিএফ-এর ইঞ্জেকশনে কি খুব ব্যথা?
এগুলো চামড়ার নিচে দেওয়া ছোট সূঁচ — ডায়াবেটিসে ইনসুলিন দেওয়ার মতো। বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে নিজেই দেন। পেট ফাঁপা আর ক্লান্তি স্বাভাবিক; তীব্র ব্যথা স্বাভাবিক নয়, সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে।
ডিম্বাণু সংগ্রহ করলে কি পরে ডিম্বাণু ফুরিয়ে যায়?
না। প্রতি মাসে অনেকগুলো ডিম্বাণু বাড়তে শুরু করে, একটিই পরিণত হয়, বাকিগুলো নিজে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। স্টিমুলেশন সেই মাসের দলটাকে বাঁচিয়ে রাখে মাত্র। ভবিষ্যতের সঞ্চয় কমে না।
আইভিএফ-এর বাচ্চা কি স্বাভাবিক বাচ্চার মতোই?
হ্যাঁ। পার্থক্য শুধু নিষেক কোথায় হয়েছে তাতে। গর্ভাবস্থা, বৃদ্ধি আর জন্ম অন্য সব গর্ভাবস্থার মতোই।
আইভিএফ গর্ভাবস্থার লক্ষণ কি আলাদা?
না। আইভিএফ গর্ভাবস্থার লক্ষণ স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই। তবে স্থানান্তরের পরে যে প্রোজেস্টেরন ওষুধ দেওয়া হয়, সেটাই স্তনে ব্যথা বা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখে নয়, নির্ধারিত দিনের রক্ত পরীক্ষা দেখেই বোঝা যায়।
আইভিএফ-এ কি সন্তানের লিঙ্গ বেছে নেওয়া যায়?
না। PCPNDT আইন 1994 অনুযায়ী ভারতে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনও কেন্দ্র এই প্রস্তাব দিলে সেখান থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও

সম্পর্কিত পাতা

যোগাযোগ

সময় নিতে

ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন — দুটোর জন্য একই নম্বর। রিপোর্ট আগে পাঠিয়ে দিলে প্রথম কথাবার্তাতেই কাজের কথা হয়।